অ্নুগল্পঃ চোখ
লেখিকাঃ নুসরাত জাহান তনিমা
ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা কড়া লিকারের রং চা টা হাতে নিয়ে তনু বেলকনির কর্ণারের ছোট্ট দোলনাটাই গিয়ে বসলো। বাইরে খুব জোর বাতাস বইছে। হয়তো একটু পরেই শুরু হবে প্রলয়-ত্রান্ডব । তবে, তীব্র বাতাসের জন্য তা বাঁধা পেয়ে পেয়ে শুরু হওয়ার জোর পাচ্ছে না।চায়ের কাপে দু-এক চুমুক দিয়ে সিগারেট টানতে টানতে ভাবছে এখন ওই চোখ জোরা শুধু আমাকেই দেখবে, আর কাউকে না। এখন থেকে সে পুরোপুরি আমার। তার চোখ জোরা আর নীলা'র কুচকুচে কালো চুল, মায়াবী সেই মুখ আর নীলাভ সেই চোখের চাহনিতে আর ডুব দিবে না। চায়ের শেষ চুমুক টা নিয়ে নিলো। সিগারেটের শেষ অংশ এক হাতের তালুতে পুরে কচলাতে কচলাতে নিভিয়ে দিলো। যেন সব কিছুর জন্য এইটাই দায়ী। অবশ্য তার চলাফেরা, পছন্দ, অভ্যাস কোনোদিনেই বিশালের পছন্দ ছিলো না। অনেক কিছুর পরেও তনুর মধ্যে একটু পরিবর্তন সে আনতে পারেনি। লুকিয়ে হলেও তনু সেটাই করতো যা বিশাল তাকে বার বার বারণ করতো।আর এভাবেই একসময় বিশাল তার চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দ সব কিছুর মিলে নীলার প্রেমে ডুবে গেলো। যা তনু'র মধ্যে থাকা অধিকারী দিক টা কে এক হিংস্র মনোভাবে পরিণত করলো।
রাত পার হয়ে সকাল। ঘুম থেকে উঠে সে আবিষ্কার করলো রুমের মধ্যেই আছে সে। কিন্তু মনে নেই কখন ঘরে এসেছিলো। কাজের মেয়েটা জানান দিলো, লাশটা বাগানেই পুঁতে দিয়ে কবরের উপরে বিশালের প্রিয় হলুদ গোলাপের বাগান করে দিয়েছে। তনু হাতের ইশারায় আচ্ছা ঠিক আছে বলে রুম ত্যাগ করার আদেশ দিলো। তারপর উঠে আলমারির ভিতরে কাঁচের বোতলে পানির মধ্যে রাখা বিশালের চোখ দুটো আলতো চুমু এঁকে নীলার জন্য একমুঠো বকুল মালা নিয়ে বেরিয়ে গেল, যা গতরাতে বিশাল নীলার উদ্দেশ্যে এনে লুকিয়ে রেখেছিলো। অপরদিকে, কাজের মেয়েটাকে বলে গেলো লাল গোলাপের চারা নিয়ে প্রস্তুত থাকে যেন। আরেকটা বাগান হবে।