.মা।
নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছি। নতুন সংসারে কী লাগবে, কী লাগবে না তার হিসেব কষে যাচ্ছিলাম বসে বসে। অবশেষে চার হাত লম্বা হলো প্রয়োজনের লিস্ট। তবে এতোকিছুর পরেও কোথাও যেনো কিছু একটার অভাববোধ হলো, মনে হলো সেই জিনিসটায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন । কিন্তু সেটা কি তা বুঝার আপ্রাণ চেষ্টায় যখন চোখদুটো এদিক ওদিক চঞ্চল , তখনি চোখ গেলো মা'য়ের দিকে। বুঝলাম!
.ঘৃণা।
কি সুন্দর করে অভিযোগ এটে দিলে যে, প্রত্যেকবার ফিরিয়ে আনলেও এইবার কেনো ফেরাতে গেলাম না। তবে বলি শোনো, রাগ-অভিমান ভাঙানো যায়। অভিমান ভাঙিয়ে ফিরিয়েও আনা যায় কিন্তু, কিন্তু ঘৃণা ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় না। তুমি যে ঘৃণাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছো আমার প্রতি, এরপর তোমাকে আর ফেরানো যায় না, ফেরানোর কোনো প্রশ্নই আসে না!
.জীবনে কেউ থামবে না।
এইযে তুমি নিজেও বুঝতে পারছো, তোমার জন্য কারো জীবন থেমে থাকবে না। তাহলে তুমি কেনো ভাবছো তুমি থেমে যাবে? আসলে তুমিও থামবে না। তোমার জীবনও চলতে থাকবে অবিরাম। এবং একটা সময় তোমারও বেশি একটা মনে পড়বে না এই সময় গুলো। শুধু স্মৃতিচারণায় আসতে পারে হঠাৎ অকারণে। তবে ততোদিনে তুমিও নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছো।
.অন্তরের ব্যাথা।
অন্তরের ব্যাথা প্রিয়জনের লগে ভাগ করলে নাকি দুঃখ কমে ? আসলেই কি কমে ? নাকি নতুন এক দুঃখ দাতা তৈরি হয় "অন্তরের ব্যাথা বাড়ানোর লাগি"....!?
.কবি'র হাজার কবিতা।
দুই লাইনে ছন্দে যদি পুরো জীবনের দুঃখ প্রকাশ করা যেতো, তবে কি আর কবি মহাশয়েরা হাজার কবিতা লিখার সাধ্য পেতো...!?
সাফল্য।
শোনো জীবন!
তোমার আসল সফলতা নিহিত মৃত্যুর মাঝে,
তবে কি এখনো খুজবে সুখ দুনিয়ার সাজে..!?
.নজর।
আমাদের বাবা-মায়েরা যেদিন থেকে আত্নীয় স্বজনের কাছ থেকে সন্তানের অগ্রগতির পথ গোপন রাখতে পারবে, সেদিন থেকে সাফ্যলের দরজায় নজর লাগা বন্ধ হবে।
.সম্মান।
পৃথিবীর সকল মানুষকে সম্মান করা যায়, তবে সবাইকে অসম্মান করা যায় না। এখন আপনার চয়েস, আপনাকে কোন তালিকায় গুরুত্ব দিবো!?
.আবেশ।
নিজের প্রতি অন্ধ আবেশ কেটে গেলে তাকিয়ে দেখো দুনিয়া,
ত্রুটিহীন যেমন আমি না, তেমন তুমিও।
.বিচ্ছেদ।
তবে কি ধরে নিবো না যে, তোমার সকল উন্মাদনা ছিলো অভিনয়?
আর আমাকে তোমার করে নেওয়ার মাঝে ছিলো শুধুই "জেদ"।
কারণ, আমি কখনোই পাইনি খুঁজে ভালোবাসা!
তাই তো এক হয়েও শেষে আপন হলো আমাদের বিচ্ছেদ।
.মৃত্যু।
আমরা ভাবি, প্রতিদিন এক-পা, দু-পা করে স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
আসলে আমরা মৃত্যুকে কাছে টেনে নিচ্ছি শুধুমাত্র।
.খারাপ লাগা।
এইযে সময়ে-অসময়ে নিস্তব্ধতা, নিঃসঙ্গতা, অস্থিরতা, খারাপ লাগা, সবকিছুর ভীড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা,
আচ্ছা কোনোভাবে কি এইসব রোগের ঔষধ আবিষ্কার করা যায় না!?
এতো প্রগতিশীল দুনিয়ায়, এতো বড়ো বড়ো বিজ্ঞানী এতো অসম্ভব কে সম্ভব করেছে। তবে খারাপ লাগার ঔষধ আবিষ্কার করা কী যায় না?
.মিথ্যে শিরোনাম।
তোমার আমার যে সম্পর্ক টা, সেটা কখনোই মিথ্যে ছিলো না।
হ্যাঁ, আমাদের একটা সত্য সম্পর্ক ছিলো এবং কোথাও একটা এখনো রয়ে গেছে।
তবে অবাক করা বিষয়টা কি জানো!? আমাদের এই সত্য সম্পর্কের শিরোনাম ছিলো মিথ্যা।
তুমি ঠিক শুনেছো। একটা মিথ্যে শিরোনাম যুক্ত সম্পর্কের মিছিলে হারিয়ে গেছি তুমি আমি!
.লক্ষ্য রাখো লক্ষ্যে।
ভাগ্যের উপর দোষ দেই কীভাবে বলো? সিদ্ধান্তগুলো তো আমিই বেছে নিয়েছিলাম।
তাই শুধু শুধু ভাগ্যের উপর বোঝা ছেড়ে হালকা হতে চাওয়াটাও পিছিয়ে পড়া। লক্ষ্য ঠিক থাকলে, এই বোঝা বয়ে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
Tags:
micro-poem